বিদ্যের জাহাজ

গোপালের সাথে এক ভদ্রলোকের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন রামবাবু , ‘বুঝলে গোপাল, ইনি হলেন শ্রী বিদ্যাচরণ মিশ্র। তোমার মতো অকাট মূর্খ নন , রীতিমত যাকে বলে বিদ্যের জাহাজ!’ ‘তা জাহাজই যখন ডাঙায় কেনো? সাগরের জলে ভাসিয়ে দিন না!’ গোপালের সরল উত্তর।

বাঁদর

গোপালকে বলছেন রামবাবু, ‘এখানে বাঁদরের বড্ড উৎপাত। তোমাকে তো দেখতে বেশ বাঁদরের মতোই ! ওদের দলে তোমাকে ছেড়ে দিলে কি হবে বলতো ? তুমি নিশ্চই কখনো বাঁদর দেখনি?’ ‘আজ্ঞে না! আপনার মত বাঁদর আমি আগে আর কক্ষনো দেখিনি!’ গোপালের সোজা -সাপ্টা উত্তর। 

কাশীতে মৃত্যু

গোপালের জ্যোতিষ চর্চার খ্যাতি শুনে দূর গ্রাম থেকে হাত দেখাতে এসেছেন এক ভদ্রলোক। গোপাল খুব ঘটা করে হাত -টাত দেখে বলে, ‘আপনি তো অতি ভাগ্যবান মশাই! হাতে স্পষ্ট দেখছি আপনার দেহাবসান হবে কাশীতে।’ পূণ্যস্থানে মৃত্যু হবে জেনে ভদ্রলোক খুব খুশি মনে ফিরে গেলেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই ভদ্রলোকের ছেলে এসে উপস্থিত। সে তেড়েফুঁড়ে গোপালকে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি গননা করে বলেছিলেন বাবার মৃত্যু হবে কাশীতে। কই , উনি তো বাড়িতেই মারা গেলেন?’ গোপাল আমতা আমতা করে বলে, ‘আমি কি তাই বলেছি নাকি? আমি বলতে চেয়েছি উনি কাশতে কাশতে মারা যাবেন। তা সেটা ঠিক বলেছি কি - না? বলুন?’ 

কুকুর কার?

মন্দিরে ঢুকতে যাবার সময় পেছন থেকে পন্ডিতের বাঁধা , ‘এ তুমি কী করছো গোপাল! মন্দিরে কুকুর নিয়ে ঢুকছো?’ ‘কোথায় কুকুর?’ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে গোপাল। ‘এই তো তোমার পেছনে!’ একটি কুকুরের দিকে হাত তুলে দেখায় পন্ডিত। ‘এটি আমার কুকুর নয়!’ ‘তোমার নয় বললেই হলো?’ রাগ দেখিয়ে বলে পন্ডিত , ‘তোমার পেছন পেছনেই তো যাচ্ছে!’ ‘বটে ? তা তুমিও তো আমার পেছন পেছন আসছো!’ 

মাছি

মিষ্টির দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় থরে থরে সাজানো মিষ্টি দেখে গোপালের খুব লোভ হয়েছে। কিন্তু ট্যাকে নেই একটি পয়সাও। ভেতরে গোপাল ঢুকে দেখে ময়রার ছোট ছেলেটি বসে আছে। গোপাল শুধায় , ‘কি-রে, তোর বাপ কই?’ ‘পেছনে। বিশ্রাম নিচ্ছে।’ ‘তোর বাপ আমি আমি খুব বন্ধু বুঝলি? আমার নাম মাছি। ক’টা মিষ্টি খাই? তোর বাপ কিচ্ছু মনে করবে না।’ বলেই গোপাল টপাটপ মিষ্টি মুখে পুরতে শুরু করেছে। মিষ্টি নিমিষে শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখে ছেলে চেঁচিয়ে বলে বলে , ‘বাবা, মাছি কিন্তু সব মিষ্টি খেয়ে ফেলছে!’ শুনে পেছন থেকে ময়রা বলে, ‘আরে খেতে দে! মাছি আর কট্টুকু খাবে?’ 

তামাক আর গাধা

গোপালের তামাকপ্রীতি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র মোটেই পছন্দ করতেন না। একদিন গোপালকে সঙ্গে নিয়ে পালকিতে কোথাও যাচ্ছেন , দেখেন তামাক ক্ষেতে এক গাধা চড়ে বেড়াচ্ছে। সেই গাধা ক্ষেতের আগাছা খাচ্ছে ঠিকই , কিন্তু তামাক পাতায় ভুলেও মুখ দিচ্ছে না। সুযোগ পেয়ে রাজা বলেন, ‘দেখেছো হে গোপাল, একটা গাধাও তামাক খায় না!’ শুনে গোপাল বলে, ‘আজ্ঞে রাজা মশাই, তা যা বলেছেন। কেবল গাধারাই তামাক খায় না।’ 

ভূত

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারে রাজবৈদ্য নিয়োগ দেওয়া হবে। দেশদেশান্তর থেকে চিকিত্সকেরা এলেন যোগ দিতে। গোপালকে রাজা দায়িত্ব দিলেন চিকিত্সক নির্বাচনের। গোপাল খুশিমনে বসলেন তাঁদের মেধা পরীক্ষায়। —আপনার চিকিত্সালয়ের আশপাশে ভূতের উপদ্রব আছে? —জি আছে। প্রচুর ভূত। ওদের অত্যাচারে ঠিকমতো চিকিত্সা পর্যন্ত করতে পারি না। দিন দিন ওদের সংখ্যা বাড়ছেই। এবার দ্বিতীয় চিকিত্সকের পালা। —আপনার চিকিত্সালয়ের আশপাশে ভূতের উপদ্রব কেমন? —আশ্চর্য, আপনি জানলেন কীভাবে! ওদের জ্বালায় আমি অস্থির। দিন দিন ওদের সংখ্যা বাড়ছেই। এভাবে দেখা গেল সবার চিকিত্সালয়ের আশপাশেই ভূতের উপদ্রব আছে। একজনকে শুধু পাওয়া গেল , যাঁর কোনো ভূতসংক্রান্ত ঝামেলা নেই। গোপাল তাঁকে রাজবৈদ্য নিয়োগ দিলেন। পরে দেখা গেল এই চিকিত্সকই সেরা। রাজাও খুশি। একদিন রাজা ধরলেন গোপালকে। গোপাল বললেন , ‘আজ্ঞে মহারাজ, দেখুন, সবার চিকিত্সাকেন্দ্রের আশপাশে ভূতের উপদ্রব শুধু বাড়ছে আর বাড়ছে। এর অর্থ হলো , তাঁদের রোগী মরে আর ভূতের সংখ্যা বাড়ে…আর যাঁকে নিলাম, তাঁর ওখানে কোনো ভূতের উপদ্রব নেই…অর্থাত্ তাঁর রোগীএকজনও মরে না। 

এখন গোপাল ভাঁড়

গোপাল ভাঁড়ের গল্প চিরনবীন। কারণ বাঙালিজীবনে অসংগতি , পাগলামো, পরিমিতিবোধের অভাব, রঙ্গরসিকতা ইত্যাদি থাকবেই। আর গোপাল ভাঁড়ও তাই থাকবেন। গোপাল ভাঁড়ের এই গল্পটা আপনারা জানেন। রাজা বললেন, শীতের রাতে কেউ কি সারা রাত এই পুকুরে গলাপানিতে ডুবে থাকতে পারবে? যদি কেউ পারে, আমি তাকে অনেক টাকাপয়সা, ধনরত্ন পুরস্কার দেব। এক ছিল গরিব দুঃখী মানুষ। সে বলল, আমি পারব। সে মাঘ মাসের তীব্র শীতে সারা রাত পুকুরের পানিতে গলা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ভোরের বেলা সে উঠল পানি থেকে। রাজার কাছে গিয়ে সে বলল , আমি সারা রাত পুকুরের পানিতে ছিলাম। আপনার সান্ত্রী -সেপাই সাক্ষী। এবার আমার পুরস্কার দিন। রাজা বললেন , সেকি, তুমি কেমন করে এটা পারলে! গরিব লোকটা বলল, আমি পানিতে সারা রাত দাঁড়িয়ে রইলাম। দূরে , অনেক দূরে এক গৃহস্থবাড়িতে আলো জ্বলছে। আমি সেই দিকে তাকিয়ে রইলাম। সারা রাত কেটে গেল। মন্ত্রী বলল , পাওয়া গেছে। এই যে দূরের প্রদীপের আলোর দিকে ও তাকিয়ে ছিল , ওই প্রদীপ থেকে তাপ এসে তার গায়ে লেগেছে। তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে এই শীতেও ওই পুকুরে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে থাকা। রাজা বললেন , তাই তো! তাহলে তো তুমি আর পুরস্কার পাও না। যাও। বিদায় হও। গরিব লোকটা কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিল। সে গেল গোপাল ভাঁড়ের কাছে। অনুযোগ জানাল তাঁর কাছে। সব শুনলেন গোপাল ভাঁড়। তারপর গোপাল ভাঁড় বললেন, ঠিক আছে, তুমি ন্যায়বিচার পাবে। গোপাল ভাঁড় দাওয়াত করলেন রাজাকে। দুপুরে খাওয়াবেন। রাজা এলেন গোপাল ভাঁড়ের বাড়ি। গোপাল ভাঁড় বললেন , আসুন আসুন। আর সামান্যই আছে রান্নার বাকি। কী রাঁধছি দেখবেন , চলেন। গোপাল ভাঁড় রাজাকে নিয়ে গেলেন বাড়ির পেছনে। সেখানে একটা তালগাছের ওপর একটা হাঁড়ি বাঁধা আর নিচে একটা কুপিবাতি জ্বালানো। গোপাল ভাঁড় বললেন , ওই যে হাঁড়ি, ওটাতে পানি, চাল, ডাল, নুন সব দেওয়া আছে। এই তো খিচুড়ি হয়ে এল বলে। শিগগিরই আপনাদের গরম গরম খিচুড়ি খাওয়াচ্ছি। রাজা বললেন , তোমার বাড়িতে দাওয়াত খাব বলে সকাল থেকে তেমন কিছু খাইনি। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। এখন এই রসিকতা ভালো লাগে ! রসিকতা কেন, রান্না হয়ে এল বলে। রাজা বললেন, তোমার ওই খিচুড়ি জীবনেও হবে না, আমার আর খাওয়াও হবে না। চলো মন্ত্রী, ফিরে যাই। গোপাল বললেন, মহারাজ, কেন খিচুড়ি হবে না। দূরে গৃহস্থবাড়িতে জ্বালানো প্রদীপের আলো যদি পুকুরের পানিতে ডুবে থাকা গরিব প্রজার গায়ে তাপ দিতে পারে , এই প্রদীপ তো হাঁড়ির অনেক কাছে। নিশ্চয়ই খিচুড়ি হবে। রাজা তার ভুল বুঝতে পারলেন। বললেন, আচ্ছা পাঠিয়ে দিয়ো তোমার ওই গরিব প্রজাকে। ওর প্রতি আসলেই অন্যায় করা হয়েছে। ওকে ডাবল পুরস্কার দেব। সে তো আপনি দেবেনই। আমি জানতাম। আসুন , ঘরে আসুন। দুপুরের খাওয়া প্রস্তুত। তারপর রাজা সত্যি সত্যি গরিব লোকটাকে অনেক পুরস্কার দিয়েছিলেন।

রাম নাম জপলে ভূত ছাড়ে

বেড়াতে বেরিয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একবার গোপালের হাত চেপে ধরে আস্তে আস্তে মোচড়াতে লাগলেন। গোপাল : আমার হাত নির্দোষ, ওকে রেহাই দিন। রাজা : জোর করে ছাড়িয়ে নাও। গোপাল: সেটা বেয়াদবি হবে। রাজা: উহু, তাহলে হাত ছাড়ব না। গোপাল তখন যে রোগের যে দাওয়াই বলে রাম নাম জপতে থাকলেন। রাজা : এতে কি আর কাজ হবে? দাওয়াই কোথায়? গোপাল: রাম নাম জপাই তো মোক্ষম দাওয়াই। রাজা : মানে? গোপাল: পিতামহ, প্রপিতামহের আমল থেকে শুনে আসছি, রাম নাম জপলে ভূত ছাড়ে। রাজা গোপালের হাত ছেড়ে দিলেন সঙ্গে সঙ্গে। 

গরু হারানো চাষি

এক চাষির একটি গরু হারিয়ে গিয়েছিলো। চৈত্রের কাঠফাটা রোদ্দুরে বনে-বাদাড়ে গরু খুজে খুজে সে বিকেলে নিজের বাড়ির দাওয়াই এসে ধপাস করে বসে ছেলেকে ডেকে বললঃ ভাই, চট করে এক ঘটি জল আন দিকি, তেষ্টাই ছাতিটা ফেটে যাচ্ছে। চাষির বউ রান্নাঘরে ছিল, সে চাষির কথা শুনে বললেঃ মিনসের এতটা বয়েস হল-তবু যদি একটু কান্ডজ্ঞান থাকতো। নিজের ছেলেকে ভাই বলে ডাকছে গা! স্ত্রির কথা শুনে চাষি বললেঃ গরু হারালি এমনই হয় মা।


শেয়াল কুকুর কাঁদবে

গোপাল পিতৃহারা হওয়ার পর এক ভদ্রলোক একদিন রাজপথে গোপালের দেখা পেয়ে বললেনঃ তোমার সেই পাজি বাপটা মারা গেছে বুঝি? পাজীই হোক আর শয়তানই হোক, তুমি এইটুকু বয়েসে পিতৃহারা হলে তো। সেই জন্য তোমার দুঃখে আমার কান্না পাচ্ছে ভাই। নয় বছর বয়স্ক গোপাল ধর্জ ধরে ভদ্রলোকের বক্তব্য শুনছিল, ভদ্রলোকের বক্তব্য শেষ হয়ে যাওয়ার পর সে বললেঃ আজ্ঞে আপনি ঠিকই বলেছেন। বাবা বেঁচে থাকতে আমায় একদিন বলেছিলেন, ওরে গোপাল, আমি মারা গেলে তোর দুঃখে শেয়াল কুকুর কাঁদবে। কথাটা এতদিন বুঝতে পারিনি-আজ বুঝলাম।

সেই কড়াইতেই মাছ ভাজা হতো

একদিন একজন লোক গোপালকে ডেকে বলল- ওহে গোপাল, শোন শোন, এই রকম ছোট কড়াই নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? আমার মামার বাড়িতে একটা কড়াই ছিল- তা কড়াইয়ের মত কড়াই বটে। লম্বায় দু’ক্রোশ আর প্রস্থে দু’ক্রোশ। ভেবে দেখ একবার কড়াইয়ের বহর।
লোকটির কথায় গোপাল হেসে ব্তি- ও, এই কথা? তা অত বড় কড়াই হতে পারে বৈকি! আমার দাদু রোজ একটা করে আস্ত ইলিশ মাছ ভাজা খেত।
লোকটি বলল- এ আর এমন কি কথা? একটা গোটা ইলিশ মাছ ভাজা অনেকেই খেতে পারে।
গোপাল বলল- এ তো আর যে সে ইলিশ নয় খুড়ো! লম্বায় দেড় ক্রোশ আর প্রস্থে প্রায় এক ক্রোশ।
গোপালের কথা শুনে লোকটি চোখ বড় বড় করে বলল- বল কি হে গোপাল, অত বড় মাছ! এ যে আমি বাপ-ঠাকুরদার জন্মেও শুনিনি। গুল দেওয়ার আর জায়গা পাওনি? অত বড় মাছ কোন কড়াইতে ভাজত?
গোপাল মুচকি হেসে বলল- কেন, আপনার মামাবাড়ির সেই কড়াই। সেই কড়াইতেই তো মাছ ভাজা হতো।

"আবার কবে পুড়বে"

একটি আলুর গুদামে কোন কারণবশতঃ আগুন লেগেছিল। আলুর গুদামের মালিক মাথায় হাত দিয়ে বসেছিল। গুদামের অনেক টাকার আলু ছিল যে।
গোপাল সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল, অপর সকলে যখন আগুন নেভাতে ব্যস্ত গোপাল তখন পাশের একটি মুদি দোকান থেকে খানিকটা নুন চেয়ে পোড়া এবং আধ-সেদ্ধ আলুগুলো মনের আনন্দে নুন দিয়ে খেতে লাগল। আলু খেতে খেতে তার পেট ভরে গেল। গুদামের মালিককে এক কোণে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখে গোপাল বলল- মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন কেন দাদা? এটা কি মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকবার সময়?
গুদামের মালিক আফসোস করে বলল- যার যায়, সে-ই বোঝে ভাল। এই আলুর গুদামটা যে আমার।
গোপাল লোকটার আরো কাছে গিয়ে বলল- তাই নাকি দাদা? তবে তো আপনি ঠিক খবর দিতে পারবেন।
-কি খবর?
-আবার কবে আলুর গুদাম পুড়বে দাদা?

"হাতীর ইন্ডিয়া যাত্রা"

পিপড়ার ভিসা পাসপোর্ট সবই আছে, সে প্রতিদিন ইন্ডিয়া যায়।
এটা দেখে হাতীর শখ হইল সেও
ইন্ডিয়া যাবে, যদিও তার
ভিসা পাসপোর্ট নাই। সে পিপড়াকে ধরল, দোস্ত আমারও ইন্ডিয়া যাইতে মন চায়।

পিপড়া বললঃ কোন সমস্যা নাই। চল ইন্ডিয়া যাই।

হাতী আর পিপড়া বর্ডার ক্রস
করতেছে। এমন সময়, বিএসএফ তাদের থামাইল। হাতীর ভিসা পাসপোর্ট দেখতে চাইল।

হাতী বললঃ দাদা, আমার তো ওসব কিছু নাই। পিপড়ায় আমারে নিয়া যাইতাছে। ওর সাথে কথা বলেন।

পিপড়া আইসা হাতীটাকে দেখিয়ে বললঃ এইবার ইন্ডিয়া গিয়া লম্বা সময় থাকতে হইব, তাই সাথে করে খাবার নিয়ে যাচ্ছি।
খাবারের আবার ভিসা পাসপোর্ট কি? 

অনামুখো কে?

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র অনামুখোদের একদম পছন্দ করতেন না। একদিন রাতে গোপালের পক্ষে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কারন গানের জলসা শুনতে শুনতে অনেক রাত হয়েছিল। তাই সেদিন বাধ্য হয়ে তাকে রাজবাড়ির অতিথিশালায় থাকতে হয়েছিল।
পরদিন ভোরে মহারাজ ঘুম থেকে উঠে অতিথিশালার বারান্দায় গোপালকে প্রথম দেখলেন, গোপালও মহারাজকে দেখে তাঁকে নমস্কার করল।
কিন্তু সেদিন নাপিতের কাছে নখ কাটতে যেতেই, রাজার কড়ে আঙ্গুলের খানিকটা মাংস কেটে গেল।
নাপিত বলল,- হুজুর, এত বছর ধরে আপনার নখ দাড়ি ও চুল কাটছি,-কই, একদিনও তো একটু আঁচড় লাগেনি-আজ নিশ্চয় আপনি কোন অনামুখোর মুখ দেখেছেন।
রাজা মনে করে দেখলেন, তিনি সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই গোপালের মুখ দেখেছিলেন। রাজরাজড়ার খেয়ালাই আলাদা।
তিনি তক্ষুনি রক্ষী পাঠিয়ে গোপালকে তলব করে আনিয়ে বললেন- তোমার মতো অনামুখো বেঁচে থাকলে বহু লোকের সর্বনাশ ঘটবে-তাই আমি তোমার মৃত্যুদণ্ড দিলাম। আজ ভোরে উঠে তোমার মুখ দেখেছিলাম বলেই আমার কড়ে আঙ্গুল কেটে গেছে।
গোপাল মৃত্যুদণ্ডের আদেশ শুনে কিছুমাত্র বিচলিত না হয়ে বলল- হুজুর, অনামুখোদের চরম দণ্ড দিয়ে ভালই করেছেন। কিন্তু মহারাজ, ঘুম থেকে সবার আগে আপনি আমার মুখ দেখেছেন বলে-আপনার কড়ে আঙ্গুলের সামান্য একটু মাংস কেটে গেছে। আর ঘুম থেকে উঠে সবার আগে আমি আপনার মুখ দেখে উঠেছি বলে-আজ আমার মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে। আপনি এবার বিচার করে বলুন-আমাদের দু’জনের মধ্যে কে বেশী অনামুখো।
সঙ্গে সঙ্গে মহারাজ গোপালের মৃত্যুদণ্ড মকুব করে দিয়ে বললেন- আমি মোটেই অনামুখো নই। দেখলে তো তোমার কিছুই হ’লো না।

গোপালের ভাইপো

গোপালের ভাইপোও কাকার উপযুক্ত বটে। কেউ কম নয়।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আর্থিক আনুকূ্ল্যে গোপাল পাকাবাড়ি তুলেছিল। পাকাবাড়ি শেষ হওয়ার পর, গোপাল একদিন তার নূতন তৈরি পাকাবাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে পাশের কুঁড়েঘরবাসী ভাইপোকে বলল- ওরে শামু, বাড়ির ভেতর বসে কি করছিস রে?
গোপালের ভাইপো শামু বাড়িতেই ছিল, সে কাকার প্রশ্নের উত্তর দেবার কোনও প্রয়োজন বোধ করল না। কারণ সে জানত, ভাইপোকে ডাকবার কোন প্রয়োজন কাকার ছিল না,নূতন বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ভাইপোকে ডেকে বাড়িটা দেখাতে চেয়েছিল।
এক বছর পর গোপালের ভাইপো একটা পাকাবাড়ি তৈরি করে, সেই নূতন বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ডাকতে লাগল- ও কাকা, কাকা, গত বছর তুমি আমায় ডেকেছিলে কেন?
গোপাল বসে বসে ভাবল-ভাইপো লায়েক হয়েছে। কাকার মনের কথা ঠিক ধরতে পেরে, ঠিক সময়েই জবাব দিয়েছে বটে

গোপালের জামাই তাড়ানোর বুদ্ধি


পাড়া-পড়শী অনেকের বাড়িতেই মেয়ে-জামাই বেড়াতে এসেছে দেখে, গোপালের স্ত্রী একদিন গোপালকে বলল, তুমি কি গা! জামাই আনার নাম পর্যন্ত কর না। দু’বছর হয়ে গেল, একবারটি জামাইকে আনলে না? স্ত্রীর কথা শুনে গোপাল বলল, জামাই আনা কি চাট্টিখানি কথা! কত খরচ বলতো? গোপালের কথা শুনে গোপালের স্ত্রী বলল, তুমি দেখছি হাড় কেপ্পন হয়ে গেলে গো। রাজবাড়ি থেকে এত টাকা-পয়সা আনছো সে টাকা-পয়সায় ছাতা পড়ে গেল। আমি কোনো কথা শুনতে চাইনে। আজকালের মধ্যে জামাই না আনলে আমি বাপের বাড়ি চলে যাব। গোপাল ভাবল, এবার আর জামাই না এনে উপায় নেই, তাই সে বিকেল বেলায় জামাই নিয়ে ফিরল। জামাই আসবার পরও প্রায় একমাস হতে চলল কিন্তু জামাই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নড়তে চায় না। বসে বসে এমন চর্ব্য-চূষ্য-লেহ্য-পেয় পাবে কোথায়? জামাই শাশুড়িকে বলল, মা, এখানে এসে আমার শরীরটা বেশ ভালো হয়েছে। ভাবছি আরও কিছুদিন থাকব। জামাইয়ের কথা শুনে শাশুড়ি বলল, তা তোমার যতদিন ইচ্ছা থাক না। তোমার শ্বশুর তো এখন দু’হাতে টাকা আনছে। যতদিন ইচ্ছে থাক। শাশুড়ি ও জামাইয়ের কথোপকথন শুনে গোপাল মনে মনে প্রমাদ গুনল। না, আর নয়। যেভাবেই হোক, বুদ্ধি করে জামাই বাবাজীকে তাড়াতেই হবে, নইলে যে জমানো টাকা ভাঙতে হবে। জামাই পোষা না হাতি পোষা! মনে মনে ফন্দি এঁটে সে জামাইকে বলল, বাবাজী, এ পাড়ায় ভীষণ ছিঁচকে চোরের উৎপাত। এই যে দেখছ লেবুগাছটা, এতে হাজার হাজার লেবু এলেও আমি সময়মতো দেখতে পাই না, বেচলেও বেশ পয়সা হতো। তুমি বাপু একটু লেবু গাছটার দিকে নজর রেখো। সব সময় নজর রাখতে হবে না, বিশেষ করে সন্ধ্যের পরে একটু নজর রেখো। বাতি নিভিয়ে দু’চারদিন গাছের দিকে নজর রাখলে নিশ্চয় চোর ধরতে পারবে। শ্বশুরের কথা শুনে জামাই বলল, আপনি কিছু ভাববেন না, চোর আমি ধরবই। সেদিন সন্ধ্যেবেলা গোপাল রাজবাড়ি থেকে ফিরে বাড়ির ভেতর গিয়ে বলল, ওগো, পেটটা ভালো নেই। কী রকম ভুটভুট করছে। গাছ থেকে দুটো লেবু এনে একটু লেবুর সরবত করে দাও তো। ঘরে আর অন্য কোনো বাতি না থাকায় গোপালের স্ত্রী অন্ধকারেই লেবু আনতে গেল। জামাই চোর ধরার অপেক্ষায় আগে থেকেই ওৎ পেতে বসেছিল। চোর ভেবে জামাই শাশুড়িকে জাপটে ধরল। চীৎকার চেঁচামেচি শুনে গোপাল সঙ্গে সঙ্গে বাতি নিয়ে ছুটে গেল। তখনও জামাই শাশুড়িকে জড়িয়ে ধরে আছে। গোপাল তাই দেখে বলল, তাই তো বলি, শাশুড়ির এত জামাই আনার ধূম কেন? গোপালের স্ত্রী ভীষণ লজ্জা পেয়ে রান্নাঘরে চলে গেল, জামাইও ভীষণ লজ্জা পেয়ে রাতের অন্ধকারে শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করল। গোপাল মনের সুখে বারান্দায় বসে তামাক টানতে লাগল

বলদের মতো চারটা পা

গোপালের তখন বয়স হয়েছে। চোখে ভালো দেখতে পারে না। - রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বললেন, কী গোপাল, গতকাল আসনি কেন? - আজ্ঞে চোখে সমস্যা হয়েছে। সবকিছু দুটো দেখি। কাল এসেছিলাম। এসে দেখি দুটো দরবার। কোনটায় ঢুকব, ভাবতে ভাবতেই…। - এ তো তোমার জন্য ভালোই হলো। তুমি বড়লোক হয়ে গেলে। আগে দেখতে তোমার একটা বলদ, এখন দেখবে দুটো বলদ। - ঠিকই বলেছেন মহারাজ। আগে দেখতাম আপনার দুটো পা, এখন দেখছি চারটা পা… ঠিক আমার বলদের মতোই!